গান আছে, নাম নেই, মর্মাহত আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল

‘আমার সারা দেহ খেওগো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে, মন যেখানে হৃদয় যেখানে’, ‘আমি তোমার দুটি চোখের দুটি তারা হয়ে থাকব’ প্রভৃতি জনপ্রিয় গানগুলো ব্যবহার হয়েছে কলকাতার একটি রিমেক চলচ্চিত্রে, কিন্তু সেখানে দেওয়া হয়নি গানগুলোর মূল স্রষ্টা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের নাম। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশের এই জনপ্রিয় সুরস্রষ্টা।
মরহুম বেলাল আহমেদ পরিচালিত বাংলাদেশের জনপ্রিয় ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রে প্রথম ব্যবহৃত হয় গানগুলো। বাংলাদেশে ১৯৮৪ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি ব্যবসাসফল হওয়ায়, সে সময়েই ছবিটির রিমেক হয় কলকাতায়। কলকাতার ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছিলেন স্বপন সাহা। রিমেক চলচ্চিত্রটিতে কাহিনী ও চিত্রনাট্যে বেলাল আহমেদের নাম থাকলেও নেই ছবির সুরস্রষ্টা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের নাম। যদিও রিমেক ছবিটিতে তাঁর লেখা ও সুরের গান ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু রিমেক ছবিটিতে লেখা আছে গান লিখেছেন যৌথভাবে সুভাষ ভদ্র, সমীর ঘোষ এবং গানের সুরকার অশোক ভদ্র।
এদিকে ছবির রিমেক হওয়ার অনুমতি বেলাল আহমেদের কাছ থেকে স্বপন সাহা নিয়েছিলেন বলে জানতেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। কিন্তু কখনো তাঁর নজরে আসেনি ছবিতে তাঁর গান থাকলেও নাম নেই। গত ৫ নভেম্বর ইউটিউবে কলকাতার ‘নয়নের আলো’ ছবিটি আগ্রহ নিয়ে দেখেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, কিন্তু ছবিতে নিজের নাম না দেখে মর্মাহত হন গুণী এই সুরস্রষ্টা।
এ বিষয়ে এনটিভি অনলাইনের পক্ষ থেকে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “এতদিন বিষয়টি আমার নজরে আসেনি।
আমার কাজের ব্যস্ততায় হয়তো এমনটা হয়েছে। কখনো রিমেক ছবিটি দেখার সময় হয়ে ওঠেনি। দুদিন আগে হঠাৎ ইউটিউবে ছবিটি দেখে আমার খুব আনন্দ হয়। কিন্তু ছবি দেখতে গিয়ে দেখি কোথাও আমার নাম উল্লেখ নেই। অথচ আমার কথা ও সুরের পাঁচটি গান এই চলচ্চিত্রে রয়েছে। গানগুলো হলো, ‘আমার সারা দেহ খেওগো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে মন যেখানে হৃদয় যেখানে’, ‘আমি তোমার দুটি চোখের দুটি তারা হয়ে থাকব’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান’, ‘এই আছি এই নাই, ওরে এই আছি এই নাই’।”
রাগ কিংবা ক্ষোভ নয়, দুঃখ প্রকাশ করে আহমেদ ইমতিয়াজ আরো বলেন, ‘আমি কোনো সংঘর্ষ চাই না। এই ছবিটি ১০০ ভাগ অনুমতি নিয়ে কলকাতায় নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু এখনকার প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ইউটিউব নির্ভরশীল। তাঁরা যদি দেখতে পায় ছবিটিতে আমার গান আছে কিন্তু নাম নেই, তাহলে বিষয়টি নিয়ে তাঁরা হয়তো আপত্তি তুলতে পারে। তাঁদের মধ্যে দ্বিধা আসতে পারে। আর তারা যদি এ বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করে তাহলে আমি কী উত্তর দেব? আমি সাধারণ মানুষ। তবু কেন আমার গান ব্যবহার করেও নাম দেওয়া হলো না? প্রশ্ন তো আসতেই পারে। যা হোক, দুঃখ পেয়েছি কিন্তু কোনো অভিযোগ নেই।’
বাংলাদেশে নির্মিত ‘নয়নের আলো’ ছবির ইউটিউব লিংক ও কলকাতায় নির্মিত ‘নয়নের আলো’ ছবির ইউটিউব লিংক :