নতুন সংসারে কেমন আছেন শ্রেয়া ঘোষাল?

বিয়ের পর কেটে গেছে ১০ মাস। গত ১০ মাসে বিয়ে কিংবা বিয়ের পরের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনোরকম মুখ খোলেননি জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল। অবশেষে ভাঙলেন নীরবতা। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অকপটে জানালেন অনেক কথা। বলা যায়, মিডিয়াকে না জানিয়েই একরকম চুপি চুপি শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সেরে ফেলেছিলেন বিয়ে। এখন ১০ মাস পেরিয়ে এসে অকপটে স্বীকারোক্তি দিলেন, ‘আসলে আমি জানতাম আমি মিডিয়ার ব্যাপারটা হ্যান্ডেল করতে পারব না। তাই আগে থেকে জানাইনি। আর তা ছাড়া খুব ক্যাজুয়ালভাবেই লাস্ট মোমেন্টে আমাদের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। আমরা দুজনে একে অপরকে প্রায় ১০ বছর ধরে চিনি। অনেক দিনের মেলামেশা। ফলে অনেকটাই ঘরোয়াভাবে বিয়ে হয়ে গেছে আমাদের। শুধু দু-চারজন কাছের মানুষ আর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রাই এসেছিলেন বিয়েতে।’
তবে হ্যাঁ, আপাদমস্তক বাঙালি শ্রেয়ার বিয়ের বেনারসি কিন্তু গিয়েছিল খোদ কলকাতা থেকে। শ্রেয়া জানালেন, মা, জেঠিমা আর বাবা মিলে কিনেছিলেন বেনারসি। তারপর নিজের ডিজাইনার দিয়ে সেটাকে ডিজাইন করে নিয়েছিলেন শ্রেয়া।
বিয়ের পরও শ্রেয়ার জীবনযাপনে তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। বললেন, ‘প্রায় একই রকম আছে সব কিছুই। একই রকম ব্যস্ত আছি। তবে বিয়ের পর একটুও যে পরিবর্তন আসেনি এমনটা নয়। সামান্য কিছু পরিবর্তন এসেছে। সেটা টের পাচ্ছি। সেটা হলো রেসপনসিবিলিটির ব্যাপার। নিজের আলাদা বিবাহিত জীবনে কিছু কিছু দায়িত্ব নিজেকেই সামলাতে হয়, যেগুলো সম্পর্কে এতদিন ধারণা ছিল না। তা ছাড়া আগের মতোই স্পয়েল্ড চাইল্ড থেকে গিয়েছি। কিন্তু সেটা থাকলেও যে আর চলবে না সেটাও বুঝতে পারছি। কারণ বাড়ির দেখভালও তো করতে হচ্ছে। এটাই আমার কাছে রেসপনসিবিলিটি।’
স্বামী শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়। বাড়িতে তাঁর হাতের রান্না শিলাদিত্যর ভীষণ প্রিয় বলেও জানান শ্রেয়া। বললেন, ‘আমার হাতের সব রান্নাই ও ভালোবাসে। যে কারণে কাজের চাপ থাকা সত্ত্বেও মাঝেমধ্যে সময় বের করে রান্নাঘরে ঢুকে পড়ি।’ মূলত সি ফুড বানাতেই বেশি ভালোবাসেন শ্রেয়া। তবে সি ফুড প্রিপারেশনের মধ্যে ইন্ডিয়ান আর কন্টিনেন্টালই বেশি বানাতে পছন্দ করেন।
এখন বিবাহিত জীবন। সংসার ধর্ম, ঘরকন্না সামলে চলতে হয়। বললেন, এখন বিয়ের পর নিজেকে নিজে গোছাতে শিখেছি। পুরো দিনের ওয়ার্ক আউটের প্ল্যানিং আমাকেই করতে হয়, করতে শিখেছি এখন। ঘড়ি ধরে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোনোর চেষ্টা করি। চেষ্টা করি ঠিক সময়ে উঠে পড়ারও। সকালে ঘুম থেকে উঠে একটা টাইম বের করে নিই রেওয়াজ করার জন্য। আগে তো রেওয়াজটাকে এতটা গুরুত্ব দিতাম না। এখন সেই গুরুত্বটা বুঝতে পারছি। সকালের কাজ সেরে তারপর স্টুডিওতে যাই। চেষ্টা করি সবকিছুই যেন ছন্দে চলে।
শ্রেয়া তাঁর গানের ক্যারিয়ার নিয়ে বললেন, ‘বাজিরাও মস্তানি’ ও ‘ওয়াজির’-এর মতো নতুন ছবিতে রয়েছে তাঁর গাওয়া গান। তবে কবে কোন গান মার্কেটে আসছে তা অনেক ক্ষেত্রে মনে রাখা যায় না। শ্রেয়া বললেন, আসলে সুন্দর অনেক গান আগে থেকে রেকর্ড করা হয়ে থাকে। রেকর্ড করা গানের মধ্যে কোনটা যে কখন রিলিজে আসছে সেটা সব সময় আমার মনে থাকে না। তবে অনেক নতুন ছবিতেই শ্রেয়ার গাওয়া গান সামনে মুক্তি পাবে।
জনপ্রিয় এই শিল্পী এখনই এককভাবে অ্যালবাম করার কথা ভাবছেন না। শ্রেয়া বললেন, কিছু সিঙ্গলস করতে চাইছি। কিছু গান রেকর্ড করা আছে। আরো কিছু করব। আর সেগুলো টাইম টু টাইম রিলিজ করবে। যার জন্য সব সময় কিছু না কিছু ভাবনাচিন্তা, পরিকল্পনা চলতেই থাকে। তবে আগে থেকে প্ল্যান করে কিছু করা এমন ধাঁচের শিল্পী কিন্তু শ্রেয়া ঘোষাল নন। জানালেন, ‘আমার কনসার্ট, হিন্দি, বাংলা সাউন্ডের জন্য রেকর্ডিং সবকিছু নিয়ে দিব্যি দিন কেটে যাচ্ছে। প্ল্যান না করে নতুন কোনো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়াটাই তো বেশি এন্টারটেইনিং।’