পোপ লিও’র নেতৃত্বে নৈশপ্রার্থনায় সমবেত ১০ লাখ তরুণ

পোপ চতুর্দশ লিও’র নেতৃত্বে স্থানীয় সময় শনিবার (২ আগস্ট) রোমে এক বিশাল নৈশপ্রার্থনা অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ লাখ ক্যাথলিক তরুণ সমবেত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সপ্তাহব্যাপী এই তীর্থযাত্রা পবিত্র জুবিলি বর্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। ‘জুবিলি অব ইয়ুথ’ শীর্ষক এই আয়োজনে ভ্যাটিকান ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ক্যাথলিক তরুণদের আমন্ত্রণ জানায়, যেখানে বিশ্বের ১৪৬টিরও বেশি দেশ থেকে হাজার হাজার তরুণ তীর্থযাত্রী রোমে ভিড় করেছেন।
প্রথমবারের মতো আমেরিকান নাগরিক হিসেবে নির্বাচিত পোপ চতুর্দশ লিও-র দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই এই ‘জুবিলি অব ইয়ুথ’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সপ্তাহজুড়েই রোমের রাস্তায় বিভিন্ন দেশের পতাকা হাতে ও ধর্মীয় গান গেয়ে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী উৎসবের আমেজ তৈরি করেছেন।
ফ্রান্সের প্যারিস থেকে আসা ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অ্যালিস বেরি বলেন, আমি খুব কৌতূহলী। আমরা এখনো তাঁকে ভালোভাবে চিনি না। তিনি আমাদের কী বলবেন? তরুণদের জন্য তাঁর বার্তা কী হবে? সেটা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।
তরুণদের জন্য ভ্যাটিকান সারা শহরজুড়ে বিভিন্ন আয়োজন করেছে। রোমের প্রাচীন সার্কাস ম্যাক্সিমাসে তরুণদের পাপ স্বীকারের (কনফেশন) জন্য শুক্রবার (১ আগস্ট) প্রায় এক হাজার পুরোহিত উপস্থিত ছিলেন। খ্রিস্টপূর্ব যুগে যেখানে রথদৌড় হতো, সেই হিপোড্রোমে সারি সারি ২০০টি সাদা গাজেবো স্থাপনায় তরুণরা ১০টি ভিন্ন ভাষায় পুরোহিতদের সঙ্গে কথা বলেন।
এই তীর্থযাত্রা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বিশ্বব্যাপী তরুণরা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভুগছে ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক তরুণ তীর্থযাত্রী জানিয়েছেন, তারা জলবায়ু পরিবর্তন এবং যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে ভ্যাটিকানের অবস্থান জানতে চান।
বেলিজ থেকে আসা ২৯ বছর বয়সী সামারেই সেমোস বলেন, আমরা এখনো তাঁর নেতৃত্ব বোঝার চেষ্টা করছি। আমি চাই তিনি ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো’ নিয়ে শক্ত অবস্থান নিন।
এই তীর্থযাত্রা এমন সময় হচ্ছে, যখন ইসরায়েল-বেষ্টিত গাজায় দুর্ভিক্ষ নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বিরাজ করছে ও মস্কোর ইউক্রেন আক্রমণের তিন বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে।

ভ্যাটিকান যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন বা সিরিয়া থেকে আগত তরুণ ক্যাথলিকদের প্রশংসা করেছে। পোপ লিও ‘শান্তির জন্য প্রার্থনা’ করতে তরুণদের প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তরুণদের কণ্ঠস্বর পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাবে।’
পুরো আয়োজনের মূল অনুষ্ঠান হবে রোমের টর ভারগাটা এলাকায়। সেখানে পোপের জন্য নতুন একটি উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। ২৫ বছর আগে এই একই এলাকায় পোপ দ্বিতীয় জন পলের অধীনে শেষবার তরুণদের জুবিলি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
আয়োজকদের মতে, এবারের আয়োজনে চার হাজার ৩০০ এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন ও তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।