পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধনীর প্রতিবাদ দুই সংগঠনের

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন সংশোধনের প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিভিত্তিক দুটি সংগঠন পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ।
আজ মঙ্গলবার পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাব্বির আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, তিন পার্বত্য জেলার বেশির ভাগ জনগোষ্ঠী বাঙালিদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বের করার জন্য এটি একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্র। এই আইনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য এলাকা বাঙালিমুক্ত করার সন্তু লারমার যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা তা সহজ হয়ে গেল। পার্বত্য বাঙালিরা এই আইন কখনই মেনে নেবে না। প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে এই আইন প্রতিহত করা হবে বলে তারা সরকারকে হুঁশিয়ার করে দেয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১’-এর ছয়টি ধারা সংশোধনের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। ফলে ভূমির মালিকানা হারিয়ে উদ্বাস্তু হতে যাচ্ছে পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত বাঙালি লাখ লাখ পরিবার। কেননা পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙালিদের উচ্ছেদ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনের এ সংশোধনী আদায় করেছে জেএসএস। এই সংশোধনী কার্যকর হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিদের জীবনে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তা কল্পনারও অতীত। এর ফলে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন হয়ে পড়বে সন্তু লারমার ইচ্ছে বাস্তবায়নের হাতিয়ার।’
পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ জানায়, যেহেতু এ কমিশন কোনো ভুল সিদ্ধান্ত দিলেও তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না তাই এর মাধ্যমে বাংলাদেশের এক দশমাংশ আয়তনের পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমির ওপর সন্তু লারমার একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। আর পার্বত্যাঞ্চলে বাঙালিদের অস্তিত্বে বিশ্বাসহীন সন্তু লারমার একক রাজত্বে বাঙালিরা তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ হবে।
মন্ত্রিসভায় জনসংহতি সমিতির ইচ্ছানুযায়ী এই আইনের সংশোধন হয়েছে এমন অভিযোগ এনে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আইনটি পুনর্বিবেচনা না করে সরকার আইনের প্রয়োগ করতে গেলে সৃষ্ট যেকোনো অনভিপ্রেত ঘটনার দায় সরকারকেই নিতে হবে এবং কঠিন আন্দোলনের মাধ্যমে এই আইন বাতিল করতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।
গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের খসড়া সংশোধনী পাস করা হয় এবং তাতে কমিশন চেয়ারম্যানের বিদ্যমান ক্ষমতা হ্রাস করে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সংশোধনী প্রস্তাবের বেশ কয়েকটি বিবেচনায় নেওয়া হয়।
১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাহাড়ের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য এ কমিশন গঠিত হয় এবং একাধিকবার কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ ও কার্যালয়সহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শুরু হলেও ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির কোনো কাজই শুরু করতে পারেনি কমিশন। কারণ শুরু থেকেই কমিশন আইনের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল জনসংহতি সমিতি। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার কমিশন আইনের সংশোধন করেছে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।