রাঙামাটিতে ইউপি নির্বাচন বর্জনের হুমকি আ.লীগের!

পাহাড়ি অঞ্চলের রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, ইউপিডিএফ ও জেএসএসের বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র তৎপরতার’ অভিযোগ তুলেছে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী। এ কারণে ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দলটির প্রার্থীরা মাঠে নামতে পারছেন না। আগামী ১ জুনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছে রাঙামাটি আওয়ামী লীগ।
গতকাল বুধবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. মুছা মাতব্বর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে দুবার সংবাদ সম্মেলন করার পর এখনো ‘অনিশ্চয়তা আর শঙ্কায়’ ভোগা আওয়ামী লীগ নির্বাচনের আট দিন আগে পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজেদের অবস্থানই স্পষ্ট করল।
গতকালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুবার সংবাদ সম্মেলন করার পরও প্রশাসন অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেনি। জেএসএস ও ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীদের কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মাঠে নামতে না পারা এলাকাগুলোয় ৯৮ জন পুরুষ ও নারী সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এখনো ৪৯টি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১ জুনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেবেন তাঁরা।
এর আগেও আওয়ামী লীগের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন এক দফায় পেছানো হয় এবং প্রায় দুই মাস পর ষষ্ঠ ধাপে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে রাঙামাটির প্রায় অর্ধেক ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে না পারা আওয়ামী লীগ এবার প্রায় সব ইউনিয়নেই প্রার্থী দিয়েছে। তবে এসব ইউনিয়নের বেশির ভাগেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা মাঠে নামতে পারছেন না বলে দুই দলের দায়িত্বশীল নেতাদের অভিযোগ।
গত ২১ মে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের রাঙামাটি আগমনের পর মতবিনিময় সভায় প্রকাশ্যেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা তাঁদের বক্তব্যে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা এবং নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও প্রয়োজনে সেনাবাহিনী ব্যবহারের বিষয়েও আশ্বস্ত করেন। এর পরও যে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি, তাই যেন স্পষ্ট হলো আওয়ামী লীগের বিবৃতিতে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা মাতব্বর বলেন, রাঙামাটির বেশির ভাগ এলাকাতেই তাঁদের প্রার্থীরা কাজ করতে পারছেন না। তাঁদের কর্মীদেরও মাঠে নামতে দেওয়া হচ্ছে না। আঞ্চলিক দলগুলোর দাপটের কারণে এরই মধ্যে প্রায় ৯৮ জন ইউপি সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাই পরিস্থিতি না পাল্টালে তাঁরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হবেন।