নদীর ‘মাটি’ দিয়ে জ্বলছে চুলা!

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নীলগঞ্জে নরসুন্দা নদীর তলদেশ খুঁড়ে পাওয়া যাচ্ছে এক ধরনের কালো মাটি। স্থানীয় বাসিন্দারা তা ব্যবহার করছে জ্বালানি হিসেবে। এ মাটিতে উন্নতমানের দাহ্য পদার্থের উপাদান আছে বিষয়টি জানার পর মজুদ, মান নির্ণয় ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ভরাট হয়ে যাওয়া নরসুন্দা নদীটি সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে খনন করা হয়। খননের পর নদীর তলদেশের বিশাল এলাকাজুড়ে দেখা মেলে নরম কালচে মাটির অস্তিত্ব। কয়েক বছর ধরেই শীত মৌসুমে নদী শুকিয়ে গেলে নদীর তলদেশের দুই তিন ফুট খুঁড়েই এ মাটি সংগ্রহ করছে স্থানীয় বাসিন্দারা। কয়লার মতো দেখতে এ মাটি শুকিয়ে রান্নার কাজে ব্যবহার করে তারা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানালেন, মাটি সরানোর পর দেখা গেছে কয়লা মাটি বের হয়েছে। পরে এটা শুকানো হলো। এরপরে দেখি চুলায় দিলে তা জ্বলে।
নীলগঞ্জ এলাকার কাচারিপাড়া, বাজারিপাড়া, পটুয়াকান্দিসহ আশপাশের গ্রামগুলোর প্রায় বাড়িতেই চোখে পড়ে স্তূপ করে রাখা নদী থেকে তোলা কালোমাটি। এ মাটি বিক্রি করে আয়ও করছেন কেউ কেউ।
এ মাটি পরীক্ষা করে ভূগোলের শিক্ষকরা বলছেন, এটি আসলে উন্নতমানের কয়লা।
কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. আবদুল কাদির চৌধুরী বলেন, ‘এতে কার্বনের পরিমাণ ৮০ ভাগের ওপরে। দাহ্যক্ষমতা অনেক বেশি। বাংলাদেশে যতগুলো কয়লা খনি পাওয়া গেছে তার মধ্যে এটা অন্যতম। এ রকম উন্নতমানের কয়লা খুব কম জায়গায় আছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এলাকাটি পরিদর্শন করে মাটি সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী আবেদ হোসেন বলেন, ‘গুরুত্ব বিবেচনায় আমরা সেখানে ব্যবস্থা নেই। এখানে এখন কয়লা, ভবিষ্যতে আরো গভীরে তেলও পাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।’
কাজী আবেদ আরো জানান, কয়লার মজুদ নির্ণয় ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের সম্ভাব্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে ঢাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।