জাবি প্রক্টরের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

‘গুলি করলেন ছাত্রলীগকর্মী, প্রক্টরের অডিও ফাঁস’ শিরোনামে ২১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে এনটিভি অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা। আজ সোমবার সন্ধ্যায় প্রক্টর ওই প্রতিবাদলিপি পাঠান।
প্রক্টরের পুরো বক্তব্য : পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটি ফার্মেসি বিভাগের এবং এই অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রক্টর অফিসকে অবহিত করা হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে একজন শিক্ষার্থী আমাকে ফোনে জানায়, ফার্মেসি বিভাগের ৪৪তম ব্যাচ (মীর মশাররফ হোসেন হল) ও ৩৯তম ব্যাচের (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল) দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে। তখন আমি প্রাথমিকভাবে ছাত্রদেরকে বিভাগের সভাপতির কাছে যেতে বলি। কারণ আমি মনে করেছি, বিষয়টি ফার্মেসি বিভাগের ঘটনা। ফলে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সভাপতির কাছে যেতে বলেছি এবং সভাপতির মাধ্যমে অভিযোগটি প্রশাসনকে অবহিত করতে বলি। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আমি উপ-উপাচার্য মহোদয়কে অবহিত করি।
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থী ফার্মেসি বিভাগের হওয়া সত্ত্বেও সমস্যা সমাধানের জন্য ফার্মেসি বিভাগের পক্ষ থেকে সভাপতি কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এমতাবস্থায় উপরি-উক্ত দুটি হলের শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা সংঘর্ষে পরিণত হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে শিক্ষার্থীদের নিবৃত করার জন্য আমি উক্ত ছাত্রকে বিভাগীয় সভাপতির মাধ্যমে সমাধান করার ওপর জোর তাগিদ দেই। এ বিষয়ে বিভাগের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ না নেওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই রাতেই শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয় এবং এরই মধ্যে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ব্যাপারটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ইন্ধনের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহার বিরুদ্ধে।’ কিন্তু প্রতিবেদনের ভেতর এমন কোনো তথ্য নেই যা প্রমাণ করে যে উক্ত ঘটনায় প্রক্টরের কোনো ইন্ধন রয়েছে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য : সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে এবং প্রক্টর ও একজন ছাত্রলীগ নেতার মধ্যে মোবাইল কথোপকথনের অডিও রেকর্ড প্রতিবেদনে সংযুক্ত রয়েছে।
ঘটনাটি ফার্মেসি বিভাগের দুই ব্যাচের শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘটিত হয়নি। বরং প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ রয়েছে লিখিত অভিযোগকারী দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাইদুল ইসলাম সিফাত ও হাসান মাহমুদ ফরিদ। অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী মহিদুর রহমান রাসেল ফার্মেসি বিভাগের ৩৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
এ ছাড়া প্রক্টরকে ফোনকারী ছাত্রলীগ নেতা এবং অভিযোগকারী দুই শিক্ষার্থীও ফার্মেসি বিভাগের কেউ নন। তাই এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতি একান্তই প্রয়োজন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিমত। সর্বোপরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা দেখভাল করার দায়িত্ব প্রক্টর কার্যালয়ের। তাই প্রক্টর কোনোভাবেই এ ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না।
কথোপকথনের শুরুতেই প্রক্টর একজন ছাত্রলীগ নেতাকে বলেন, ‘চেয়ারম্যানরে ভালোমতো কইরা ধর। একবারে ধর’। এবং ‘কিচ্ছু দায়িত্ব না, ওরে ধরে আটকাই থোও (রাখো) ওনে (ওখানে)। বল যে, এর বিচার না হইলে আমরা উঠব না।’
বিভাগের একজন সভাপতি সম্পর্কে একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রক্টরের কথোপকথনের ভিত্তিতে ‘ব্যাপারটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ইন্ধনের অভিযোগ উঠেছে’ প্রক্টরের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে রোববার রাতে প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহার মোবাইল নম্বর (০১৭১৪….৩১৫) নম্বরে একাধিকবার কল করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি। তা ছাড়া সাংবাদিক পরিচয় জানিয়ে এসএমএস করলেও তার কোনো জবাব দেননি প্রক্টর। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের কাছে এসএমএসটি সংরক্ষিত রয়েছে।