নুরের ওপর হামলার দায় সরকারকেই নিতে হবে : আসিফ মাহমুদ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর এমন বর্বর হামলা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও ঘটেনি, যা এই সরকারের আমলে ঘটেছে। এর দায়-দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।’
আজ রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে দেখতে গিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘এই হামলা কোনো সাধারণ কর্মীর ওপর ঘটেনি, একটি দলের প্রধানের ওপর হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর যে বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও ঘটতে দেখিনি; যেটি দুঃখজনকভাবে এই সরকারের আমলে ঘটেছে। হামলার ঘটনা যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঘটেছে, তাই এই হামলার ঘটনা যে-ই ঘটাক, সরকার এর দায়দায়িত্ব এড়াতে পারে না। এর দায় এই সরকারের ওপরেই বর্তায়। তাই এই সরকারকে এটা সমাধান করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে না পারে, বিচার করার মাধ্যমে এই সরকারকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’
সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে করা অভিযোগের বিষয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সরকার একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি করার বিষয়ে ভাবছে।’
মব প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনটা মব আর কোনটা রাজনৈতিক কর্মসূচি, এটার পার্থক্য আগে বুঝতে হবে। রাজনৈতিক দল কীভাবে মব করে? আমি যতটুকু জানি, প্রথমত হামলা হয়েছে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে। এর আগেও দেখেছি আমরা, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতেই পারে। এজন্য মব বলে একটি পক্ষকে নিরপেক্ষ করা এবং আরেকটি পক্ষকে সুবিধা দেওয়া—এটি স্পষ্ট জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর পরিকল্পনা।’
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘নুর ভাই জুলাই আন্দোলনের একজন সম্মুখ সারির নেতা। তার ওপর এই ধরনের হামলা মেনে নেওয়া যায় না। আমি তাকে দেখে এসেছি। তার নাক-মুখে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। যদি তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, সরকারের পক্ষ থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হবে।’
জাতীয় পার্টির ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর পরিকল্পনা চলছে দাবি করে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘যেহেতু রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের চেষ্টাটা ব্যর্থ হয়েছে, তাই জাতীয় পার্টির ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর পরিকল্পনা চলছে। জাতীয় পার্টি হচ্ছে একদম সুনির্দিষ্ট ও চিহ্নিত ফ্যাসিবাদী। আমরা দেখেছি, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের এই ফ্যাসিবাদী সংসদকে তারা বারবার বৈধতা দিয়েছে। কীভাবে ভারত থেকে প্রেসক্রিপশন এনে বাংলাদেশে তারা একটি কৃত্রিম সংসদ তৈরি করেছে, কৃত্রিম গণতন্ত্র দেখিয়েছে।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এই চিহ্নিত ফ্যাসিবাদীদের কোনোভাবে, কোনো ধরনের সমর্থন কেউ যদি দেওয়ার চেষ্টা করে অথবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সমর্থন করা হয়, তাহলে জনগণের পক্ষ থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তা রুখে দেবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।’