সাভারে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে তিতাসের অবৈধ গ্যাস সংযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় তিতাস গ্যাস লাইনের একটি সঞ্চালন পাইপের লিকেজ থেকে আগুনের ঘটনায় তিন পোশাকশ্রমিক দগ্ধ হওয়ার পর এবার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
আজ মঙ্গলবার সকালে আশুলিয়ার দোসাইদে সাভার তিতাস গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপক সত্যজিৎ ঘোষের উদ্যোগে এ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়ল। ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও তিতাস গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় ৬০ জনের একটি দল এ কাজে অংশ নেয়।
এ সময় দোসাইদ এলাকার বিভিন্ন গ্রামে তিতাস গ্যাসের দুই শতাধিক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দোসাইদ বাজারের সাংগু গার্মেন্টসের সামনের সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির অনুমোদন না নিয়েই রাতের আঁধারে চুরি করে এসব গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজু আহম্মেদ ও মাসুদ আহম্মেদ ওরফে সিপাইয়ের নির্দেশে এসব অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব এলাকার লোকের বাড়িতে চোরাই গ্যাস সংযোগ দিয়ে এক শ্রেণির মানুষ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সরকারও বড় ধরনের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। সাভার উপজেলার শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এখনো বাসাবাড়িতে চোরাই গ্যাস সংযোগ দেওয়া অব্যাহত রয়েছে।
এলাকাবাসী আরো জানান, ঠিকাদার, স্থানীয় দালালচক্র ও গ্যাস কোম্পানির লোকজন মিলে বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নিয়ে নিজেরাই মূল গ্যাসের পাইপ ছিদ্র করে গত কয়েক মাস আগে থেকে এই গ্যাস সংযোগ দিয়ে আসছিল। এসবের সঙ্গে থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনও জড়িত রয়েছে বলে ওই এলাকার লোকজনের দাবি।
সেসব সংযোগই আজ সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এ ব্যাপারে সাভার আঞ্চলিক তিতাস গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপক সত্যজিৎ ঘোষ বলেন, সাভার উপজেলার সব অবৈধ গ্যাস লাইন পর্যায়ক্রমে বিছিন্ন করা হবে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান নিয়মিত চলবে। যারা অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়েছে আর যারা অবৈধভাবে ব্যবহার করছে সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল সোমবার রাতে আশুলিয়ায় তিতাস গ্যাস লাইনের একটি সঞ্চালন পাইপের লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে তিন শ্রমিক দগ্ধ হন। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।