সালথায় সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরটিয়া পুরাগুদি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
নিহত ব্যক্তির নাম হারুন মীর (৭২)। এ ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে সালথা থানায় একটি মামলা হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ সকাল ১০টার দিকে শক্রতার জের ধরে সালথা উপজেলার মুরটিয়া পুরাগুদি গ্রামে আফছার মীর গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ হারুন মীরের বাড়িতে হামলা করে। এ সময় হামলাকারীরা হারুন মীর ও তাঁর তিন ছেলে হাবিব মীর (৪৫), রফিক মীর (৩৫) ও রজিব মীরকে (৩২) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে।
পরে আহত চারজনকে প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থা শঙ্কটাপন্ন হওয়ায় তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহত হারুন মীরের ভাগ্নে মিলন জানান, মারাত্মক আহত হারুন মীর এবং তাঁর তিন ছেলে রফিক মীর, হাবিব মীর এবং রজিব মীরকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকেই প্রতিপক্ষের লোকজন হাসপাতালের খাতা থেকে তাঁদের নাম কাটার চেষ্টা করে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা দুবার নাম কেটে দিলে লোকজন ধরে তাঁদের আবার ভর্তি করা হয়। সর্বশেষ গতকাল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক দীপঙ্কর নাম কেটে দিলে কোনো উপায় না দেখে বিকেল ৫টায় নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
নগরকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মেহেদী হাসান জুয়েল বলেন, রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হারুন মীর মারা যান।
সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ হোসেন জানান, আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এসআই আরো জানান, হারুন মীর মারা যাওয়ার খবর শুনে উত্তেজিত লোকজন আফছার মীরের বাড়িতে হামলা চালায়। পরে সালথা থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।