সহকর্মী শিক্ষককে হাতুড়িপেটা!

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সহকর্মীর হাতুড়িপেটায় সঞ্জীবুর রহমান ভুইয়া নামের এক শিক্ষক আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার সকালে ভৈরব পৌর শহরের চণ্ডীবের এলাকার মুর্শিদ-মুজিব উচ্চ বিদ্যালয়ে।
ঘটনার পরপর শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে হাসপাতালে ভিড় জমায় এবং অবিলম্বে এই শিক্ষকের ওপর হামলাকারীদের বিচার দাবি করে। অন্যথায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে বিদ্যালয়ের সিনিয়র (গণিত) শিক্ষক সঞ্জীবুর রহমান ভুইয়ার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রধান শিক্ষককের কথা অমান্য করার অভিযোগ এনে তাঁকে বরখাস্ত করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক তদন্ত দল তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সত্যতা খুঁজে না পাওয়ায় ১৮ জানুয়ারি পুনরায় কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
আজ বুধবার মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত চিঠি নিয়ে বিদ্যালয়ে গেলে তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে চলা বাদানুবাদের এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খিজির আহমেদ মুরাদ ও অফিস সহকারী রবিন প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে ছুটির ঘণ্টার হাতুড়ি দিয়ে সঞ্জীবুর রহমানকে এলোপাতারি আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা ফেটে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে তাঁর সহকর্মীরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক খিজির আহমেদ মুরাদ ও অফিস সহকারী রবিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁদের পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর তাঁরা গাঁ-ঢাকা দিয়েছেন বলে জানান বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক এনটিভি অনলাইনের কাছে দাবি করেন, সঞ্জীবুর রহমান তাঁকে লাঞ্ছিত করার পর ওই ঘটনা ঘটেছে।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হাজি আমিনুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে অতি দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভৈরব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেন এনটিভি অনলাইনকে জানান, ঘটনাটি তিনি অবগত হয়েছেন। বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তিনি রিপোর্ট করবেন। পরে তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।