ফরিদপুরে আ. লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

ফরিদপুরের সালথায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির চৌধুরী ও উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির চৌধুরীর সালথা বাজারের দোকানঘর ও সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, আগামীকাল শনিবার সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। ওই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বড় ছেলে আয়মন আকবর চৌধুরী বাবলু ও তার অনুজ সাহাদাব আকবর লাবুর দলীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সম্মেলন বন্ধ করে। এ ঘটনায় উপনেতার ছোট ছেলে লাবুর সমর্থকরা সালথা উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বরসহ স্থানীয় দলীয় সমর্থকদের নিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিকেলে কাউলিকান্দা স্কুল মাঠে একটি সভা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি উপজেলার প্রধান সড়ক ঘুরে আসে। এ সময় মধ্যপথে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবারের সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সাব্বির চৌধুরী একটি মিছিল নিয়ে মিছিলে যোগ দেয়। মিছিলটি উপজেলা চত্বরে গেলে সংসদ উপনেতার বড় ছেলে বাবলু ও ছোট ছেলে লাবুর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে দুপক্ষের অনুসারীরা বল্লম, সরকি, লাঠি ও দেশীয় আস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর হামলা শুরু করে।
এ সময় লাবুর পক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান এবারের সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর, সংসদ উপনেতার ব্যক্তিগত সচিব সফিউদ্দিন, গোট্টির চেয়ারম্যান লাভলু, সাবেক উপজেলার চেয়ারম্যান অহিদসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিল।
অপরদিকে বাবলুর পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবারের সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সাব্বির চৌধুরীসহ প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় দুগ্রুপের কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে।
আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির চৌধুরীর সালথা বাজারের ২০টি দোকানঘর ও তাদের সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে দাবি করেন সাব্বির চৌধুরী।
অপরদিকে সালথা উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বলেন, ‘শনিবার আমাদের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল যা ষড়যন্ত্রকারীরা বন্ধ করে দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ মিছিলে সাব্বির চৌধুরীসহ তার সমর্থকরা আমাদের মিছিলে হামলা চালায়। আমি এদের বহিষ্কারের দাবি জানাই।’
এ ব্যাপারে সালথা ও নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যা ব গিয়ে রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমান এলাকা শান্ত আছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে এখনো কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি।’