মহিলা সমিতিতে আজ ‘কাদামাটি’ নাটকের প্রদর্শনী

রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে আজ শনিবার (২ আগস্ট) জাগরণী থিয়েটারের ২১তম প্রযোজিত নাটক ‘কাদামাটি’র দ্বিতীয় প্রদর্শনী হবে। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় নাটকটির প্রদর্শনী শুরু হবে। একক অভিনীত নাটকটিতে অভিনয় করেছেন স্মরণ সাহা। অনিকেত পাল রচিত নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন দেবাশীষ ঘোষ।
নাট্যভাষায় দেখা যায়, জীবন-জীবিকার তাগিদে কিংবা নিজের ইচ্ছেপূরণের ইচ্ছায় কিংবা দৃঢ় মনোবল নিয়ে মানুষ যখন নিজের শিকড় ছেড়ে পাড়ি জমায় অন্য কোন মাটিতে, ‘কাদামাটি’ তাদের গল্প। এটাকে ঠিক গল্প বলা যাবে না। এটি একটি অনুভূতির মহাকাব্য। যা পাড়ি দেওয়া মানুষগুলোর বাস্তবতার গল্প। এটি দুঃখ কিংবা সময়ের একাকিত্বের গল্প। কাদামাটির মানুষটির চারপাশে যদিও হাজার হাজার মানুষ, তবুও এক সময় না একসময় বড্ড একা মনে হয় শিকড় ছাড়া মানুষটার। এই এত বড় বড় আলোক ঝলমলে ভবনগুলো যেন গুম করে ফেলছে তাকে, কেউ যেন তাকে দেখছে না কিংবা অনুভব করছে না। এখানে সবাই যেন তার নিজের মধ্যেই হারিয়ে যেতে চায়। এই শহরে স্বপ্নের পেছনে ছুটতে ছুটতে এক সময় নিজের পরিচয়টা খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু নিজের শিকড় যখন গাঁথা হয়ে যায় অন্য মাটিতে, তখন এই শিকড়ের জন্যই ফিরে যাওয়া হয়ে ওঠে না তার নিজের মাটিতে। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে মন ফিরে যেতে চায় নিজের শিকড়ের ভূমিতে। সেই কাদামাটিতে, নিজের জন্মভূমিতে। প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে। যে কাদামাটিতে হাঁটি হাঁটি পা পা করে বড় হওয়া সেই কাদামাটির সোঁদা গন্ধ এখনো তার গায়ে লেগে আছে, তাকে ভুলে যাবে কীভাবে?
যুগে যুগে মানুষের জীবনে তাই ঘটে। মানুষ প্রতিটি মুহূর্তে নতুন শিকড় তৈরি করে। জীবনকে নতুন করে গড়ে তোলে। সত্যি এটাই জীবনের মূল কখনো একটি জায়গায় আটকে থাকে না। বরং এটি ক্রমাগত পরিবর্তিত হয় প্রতিমুহূর্তে। তারপরেও একসময় পথের শেষে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে নতুন এক দিগন্তের আশা নিয়ে। এভাবেই পরিবর্তিত সময় ও জীবনের বহুমুখী বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে জীবন।
নাটকটির আলো ও মঞ্চ পরিকল্পনায় পলাশ হেনড্রী সেন। আবহসংগীতে রামিজ রাজু। পোস্টার ডিজাইনে সোয়েব হাসনাত মিতুল। প্রক্ষেপণে শাহানা জাহান সিদ্দিকা, সাজিদ আহমেদ রনি ও শ্রেয়া সাহা স্বর্ণা। ব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ পাল গৌরাঙ্গ। মঞ্চ ব্যবস্থাপক বাহারুল ইসলাম বাহার ও প্রযোজনা অধিকর্তা আজিম উদ্দিন।
নাটকটি প্রসঙ্গে নির্দেশক দেবাশীষ ঘোষ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, কাদামাটি নাটক মঞ্চায়ন করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দুটো। প্রথমত : যারা দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমান উন্নত জীবনের আশায়, দিন শেষে তাদের একাকিত্ব তাদের কুড়েকুড়ে শেষ করে। কিন্তু তাড়া যদি বিদেশে বসেই তাদের সন্তানদের বাংলাদেশের মাটির স্পর্শে রাখেন, বাঙালি আচার-আচরণ, সংস্কৃতি ভাষার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন, তবেই এই শূন্যতা অনেকটা হালকা হয়।
দ্বিতীয়ত, যারা ভাবেন বিদেশে থাকলেই দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকে না, তাদের ভাবনাটা ভুল। বরং অনেক ক্ষেত্রে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশের প্রতি আবেগ-ভালোবাসা অনেক বেশি।
মুলত, দেশের বাইরে বাংলাদেশি নাগরিক যে যেখানেই থাকুন এই নাটক তাদের উদ্দেশ্য করে পরিকল্পনা ও নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা চাই ‘কাদামাটি’ নাটক নিয়ে তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে।